রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ খেলা

ম্যাচসেরা হলেও মন ভাঙা স্টোকসের


প্রকাশ :

টানা দুই টেস্টে ম্যাচসেরা হয়েছেন বেন স্টোকস। লর্ডসে পুরস্কার পেয়ে ছিলেন খুশি, কিন্তু ম্যানচেস্টারে সেই আনন্দ আর নেই। কারণ, এই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি তার দল ইংল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কারও যেন গুরুত্ব হারিয়েছে স্টোকসের কাছে।

ভারতের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন স্টোকস। তবে তাতেও জয় আসেনি। পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, “একজন অলরাউন্ডারের জন্য ম্যাচের ফলই আসল। যদি জিততাম, তাহলে এই পুরস্কারের আলাদা মূল্য থাকত। কিন্তু পারিনি, তাই এর কোনো গুরুত্বই নেই আমার কাছে।”

প্রথম ইনিংসে ভারতের চেয়ে ৩১১ রানের বড় লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত লড়াইয়ে ফিরে ১৪৩ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৪ উইকেট হারায়। এই দৃঢ় প্রতিরোধের প্রশংসা করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন সুন্দর ও রবীন্দ্র জাদেজা যেভাবে লড়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ। এক-দু'বার মনে হয়েছিল আমরা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, কিন্তু এই ভারতীয় দলকে হারানো সহজ নয়। তারা সেটা আবারও প্রমাণ করেছে।”

ম্যাচের শেষ দিন জয়ের আশায় কিছুটা আলো দেখিয়েছিলেন স্টোকস নিজেই। ৯০ রানে ওপেনার লোকেশ রাহুলকে ফেরান তিনি। শুভমান গিলকেও বারবার বিপদে ফেলেছিলেন, কিন্তু জাদেজা ও সুন্দর ছিলেন অটল। বাঁহাতিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কারণ ব্যাখ্যা করে স্টোকস বলেন, “ডানহাতিদের জন্য পিচে কিছুটা অসমান বাউন্স ছিল, সেটা কাজে লাগাতে পেরেছি। কিন্তু বাঁহাতিদের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। ফলে ওদের বিপদে ফেলতে পারিনি। পিচে যে রাফ তৈরি হয়েছিল, সেটাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।”

এই টেস্টে ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর শারীরিক ধকল ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৫৭ ওভার বল করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। স্টোকস জানান, চার মূল পেসার বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাই শেষ দিকে বল তুলে দেন পার্টটাইম বোলার জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের হাতে। তিনি বলেন, “বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পর পিচ থেকে তেমন সহায়তা পাচ্ছিলাম না। বোলারদের শরীর ভেঙে পড়ছিল। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে।”