মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

হামলা স্থগিত রেখে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ ইঙ্গিত ট্রাম্প


প্রকাশ : (৬ ঘন্টা আগে)
হামলা স্থগিত রেখে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ ইঙ্গিত ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে টানা উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে ‘গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ আলোচনা চলছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমবার (২৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমি মনে করি, ইতিবাচক কিছু ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না গেলে আমরা আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারি। এখন পর্যন্ত আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই এগোচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরান কূটনৈতিক পথ থেকে সরে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এসেছে—এমন খবরকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু আলোচনার বিষয়ে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে, তার সবকিছু সঠিক নয়।”

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দায়ী করে। এরপর থেকেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান অভিযান শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে আইআরজিসির বিরুদ্ধে। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।

টানা ১৩ দিনের সংঘাতের পর গত ২৫ জুলাই সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় সেন্টকম। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর ইরানও পাল্টা সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

সম্প্রতি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকলে ইরানও সংঘাত এড়িয়ে চলতে আগ্রহী। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে বার্তাও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত মিললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা তাদের নেই।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতার ওপর। আপাতত উভয় পক্ষের সামরিক বিরতি বহাল থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে নজর রাখছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

বিজ্ঞাপন