মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে একাধিক কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি ও রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাহাজটির ক্যাপ্টেনের দাবি, হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি গানবোট জড়িত ছিল। নৌযানটি জাহাজের কাছে এসে হঠাৎ গুলি চালায়। এতে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়। হামলার আগে কোনো ধরনের রেডিও যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি, যদিও শুরুতে জাহাজটিকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
একই সময়ে ইউকেএমটিও আরও জানায়, ইরানের উপকূল থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে পানামার পতাকাবাহী আরেকটি কন্টেইনার জাহাজেও গুলি চালানো হয়। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন।
এ ছাড়া একই এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তৃতীয় একটি জাহাজও গুলির মুখে পড়ে। জাহাজটি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার না হলেও মাঝসমুদ্রে থেমে যেতে বাধ্য হয়। জাহাজটির নাবিকরাও অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর আগে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। সাম্প্রতিক হামলার কারণে নৌপথটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স