বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে ভোট বৃহস্পতিবার, শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা-নিরাপত্তা জোরদার


প্রকাশ :

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শেষ হওয়ার আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, এবার প্রথমবারের মতো প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রচারণার শেষ দিনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী জনসংযোগে অংশ নেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শেষ দিনে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান।

আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা রোড শো করেন। কুলটি আসনে অমিত শাহ জনসভা করেন। তবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণাকে ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ও মুর্শিদাবাদের নওদাসহ কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। দাঁতনে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

প্রথম দফার এই ভোটে ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। এ জন্য নির্বাচন কমিশন ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। নির্বাচনি লড়াইয়ে তৃণমূল ও বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফসহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের উদয়ন গুহ, মানস ভূঁইয়া ও মলয় ঘটক। বিজেপির পক্ষে দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক দিন্দা রয়েছেন। এছাড়া কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরও আলোচনায় আছেন।

ভোটের আগের রাতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোট চলবে।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ পুরুষ ও ১ কোটি ৭৫ লাখ নারী ভোটার রয়েছেন। পাশাপাশি ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পাহাড় থেকে সমতল—পুরো রাজ্যজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ১৫২টি আসনের ফলাফলই রাজ্যের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।