সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

গাজার শিবিরে ইঁদুরের আক্রমণ


প্রকাশ :

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নতুন এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে—ইঁদুরের ব্যাপক উপদ্রব। ইসরায়েলি হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী তাবুতে আশ্রয় নেওয়া লাখো ফিলিস্তিনি এখন প্রতিদিনই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

গাজা সিটির একটি তাবুতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী ইনশিরাহ হাজ্জাজ ঘুমন্ত অবস্থায় ইঁদুরের কামড়ে গুরুতর আহত হন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে ক্ষত গুরুতর হয়ে ওঠায় তাকে একটি অস্থায়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু বয়স্করাই নন, শিশুরাও এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। উত্তর-পশ্চিম গাজার আল-মাকুসি এলাকায় ২৮ দিন বয়সী এক নবজাতক ইঁদুরের আক্রমণে আহত হয়। রাতের অন্ধকারে শিশুটির কান্না শুনে তার বাবা ঘটনাটি টের পান এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মুখে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।

গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ এখন অস্থায়ী তাবুতে বসবাস করছে। টানা হামলায় অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় খোলা জায়গায় জমে থাকা বর্জ্য ইঁদুর ও পোকামাকড়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাবুর আশপাশে প্রতিদিন অসংখ্য ইঁদুর দেখা যাচ্ছে, যা রাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে বাসিন্দারা নিরাপদে ঘুমাতেও পারছেন না। এই পরিস্থিতি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গাজা সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অভিযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের অভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে ইঁদুরনাশক, জ্বালানি ও ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত কীটপতঙ্গ ও ইঁদুর দমনের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সংস্থাটি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও সহায়তা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ ও বর্জ্য জমে আছে, যা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এই পরিবেশে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট থাকায় ছোট আঘাতও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও পরিবেশ পরিষ্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই