সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইরানের গোপন বিশেষ বাহিনী: সাবেরিন ও নোহেদ


প্রকাশ :

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা উঠলেই সাধারণত কুদস ফোর্সের নাম সামনে আসে। দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে এ বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাৎক্ষণিক অভিযান বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের আসল শক্তি অনেকটাই লুকিয়ে আছে অন্য বিশেষ বাহিনীগুলোর মধ্যে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু যেমন দ্বীপ, বন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইরানের নির্দিষ্ট কোনো একক এলিট ইউনিটের ওপর নির্ভরতা নেই। বরং একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামো এই দায়িত্ব পালন করে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থল বাহিনীতে ছড়িয়ে থাকা বিশেষ সক্ষমতাগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘সাবেরিন’। এটি আলাদা কোনো ইউনিট নয়, বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে প্রশিক্ষিত বিশেষ দক্ষতার একটি নেটওয়ার্ক। দুর্গম এলাকায় অভিযান, আকাশপথে অবতরণ এবং আকস্মিক আক্রমণে এদের পারদর্শিতা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে।

অন্যদিকে, ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ‘আর্তেশ’-এর অধীনেও রয়েছে বিশেষায়িত ইউনিট। এর মধ্যে ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সরাসরি সামরিক অভিযানে দক্ষ। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় তাদের মোতায়েন ইরানের বিদেশে সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত অবস্থান রক্ষায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিশেষ শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডুবুরি ও উভচর অভিযানে সক্ষম এই ইউনিট জাহাজ আটকানো কিংবা কৌশলগত জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর। উপসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে তাদের ঘাঁটি রয়েছে, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।

এছাড়া ‘বাসিজ’ বাহিনীও এই সমন্বিত ব্যবস্থার একটি অংশ। যদিও এদের মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হয়, তবে এর কিছু বিশেষ ইউনিট, যেমন ফাতেহিন, উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বিভিন্ন সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সহায়তা ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তারা অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক কৌশল কোনো একক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এটি একটি স্তরভিত্তিক ও সমন্বিত কাঠামো, যেখানে প্রাথমিক প্রতিরোধ থেকে শুরু করে উচ্চমাত্রার বিশেষ অভিযান—সবকিছুই একাধিক বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোই তাদের কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে এবং প্রতিরোধ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন করে তোলে।