মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের জ্বালানি তেল এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে খারগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। নিজের পরিকল্পনাকে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ Venezuela-এ যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তুলনা করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সমালোচকদের বক্তব্যকে তিনি প্রত্যাখ্যান করে নিজের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। খারগ দ্বীপের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রয়োজনে সেখানে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হতে পারে।
দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সেখানে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নেই এবং মার্কিন বাহিনী চাইলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—ওয়াশিংটন কেবল সামরিক হামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইরানের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানার কৌশল বিবেচনা করছে।
এর আগে জানুয়ারিতে Venezuela-এর রাজধানী Caracas-এ সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে আটক করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট তেল রপ্তানির বড় অংশ খারগ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে এলে তেহরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আগে তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কথা বললেও, এখন সরাসরি জ্বালানি সম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera ও BBC-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রয়েছে। তবে খারগ দ্বীপে সরাসরি অভিযান চালানো বা দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা