চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান-রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের সহযোগিতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মস্কোর সহায়তা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সহায়তা খুব বেশি বিস্তৃত নয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে মস্কো মূলত গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট সহায়তার মাধ্যমে তেহরানকে সহযোগিতা করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য ইরান পাচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপণ করা ইরানের ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইটও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদানও বেড়েছে। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, আর রাশিয়া সেগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। বরং এই সংঘাতকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সুবিধা বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিও মস্কোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতিকে কিছুটা চাঙা করতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় মস্কোর সহায়তা সীমিত পর্যায়েই থাকবে। ফলে এই সহযোগিতা যুদ্ধের ফল নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করা হচ্ছে।