শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে যুদ্ধ শেষ করার বিকল্প কমে আসছে?


প্রকাশ :

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলে আসছে যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ধারাবাহিক হামলা ইরানের কমান্ড কাঠামোকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং তাদের জবাবি হামলার ক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাত এখন শেষ হওয়ার দিকে এগোনো উচিত।

তবে বাস্তবে উল্টোটাই ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি দ্রুততর এবং আরও তীব্র হয়েছে আর কমেছে যুদ্ধ শেষ করে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট উপায়।

শনিবার জানা গেছে, ইরান তাদের দেশ থেকে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটির দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্বীপে পৌঁছতে পারেনি, তবে এই ঘটনাটিতে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতদিন বিশ্বাস করা হতো যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি কি তারা আগেই ঘটিয়েছিল, যা অজানা থেকে গিয়েছিল, নাকি বোমাবর্ষণের সময়ে তারা এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে, যাই ঘটে থাক, এর তাৎপর্য একই : সামরিক চাপ ইরানের অগ্রগতি থামাতে পারেনি।

যদি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বা আরেক শীর্ষ নেতা আলী লারিজানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসির কমাণ্ডাররা এবং সামরিক বাহিনী চিফ অফ স্টাফের মতো নেতৃত্ব যদি নিহতই হয়ে থাকেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানে অভিযান কার নির্দেশনায় চলছে? কীভাবেই বা এই চাপের মধ্যে ইরান তার সক্ষমতা বজায় রাখছে?

একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকেই অনিশ্চয়তার শুরু। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্য যে হামলায় নিহত হন, সেই হামলাতেই বেঁচে যাওয়া মোজতবা খামেনি এরপরে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষিত হন। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। দুটি লিখিত বার্তা ছাড়া তার কাছে থেকে কিছুই শোনা বা দেখা যায়নি।

তার অবস্থা যেমন এখনও অস্পষ্ট, তেমনই তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা কতটা, সেটাও পরিষ্কার নয়। কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের ওপরে নির্ভরশীল একটা কাঠামোয় এই নীরবতা ক্ষমতার একেবারে কেন্দ্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে ইরানের হামলা

তবুও ইরানের কর্মকাণ্ড দেখে তো মনে হয় না তাদের কাঠামো আদৌ ভেঙে পড়েছে।

শনিবার ইরান ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরেও হামলা চালায়। এই শহরটি ইসরায়েলের একটি অঘোষিত পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত এলাকা। এরপরে ইরানের বুশেহরের কাছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই শহরেই ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অবস্থিত। বার্তাটি স্পষ্ট যে, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে, আর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলিও এখন আর সীমার বাইরে থাকবে না।

ইরানের এ সব হামলা এবং পাল্টা হামলা থেকে মনে হয় যে, কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং সমন্বয়েরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করে নিয়েছিল যে শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হলে পুরো ব্যবস্থাটা পঙ্গু হয়ে পড়বে। এই ধারণার ওপরে ভিত্তি করেই তারা কৌশল সাজিয়েছিল। কিন্তু এখন তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেই আপাতভাবে মনে হচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোটি দ্রুত ভেঙে পড়বে কী না, তার ওপরেই নির্ভর করে "ধাক্কা এবং বিস্ময়"-এর ধারণাটি। কিন্তু সেই কাঠামোটি যদি প্রত্যাশার থেকেও শক্তপোক্ত হয়, তখন কী হবে?

যদি তাই হয়, তবে আরও তাৎক্ষণিক একটা সমস্যা দেখা দেয়: আলোচনা করার মতো কারা জীবিত আছেন?

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা আড়ালেই থেকেছেন। সংঘর্ষের গোড়ার দিকে তিনি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। জানা যাচ্ছে যে তার ওই ভূমিকা নিয়ে আইআরজিসির ভেতর থেকেই ক্ষোভ জানানো হয়েছিল।

মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি খুবই কম কথা বলেছেন, তাই কূটনৈতিক বিকল্পগুলি আরও সংকীর্ণ হয়ে এসেছে।(সূত্র: বিবিসি বাংলা)