শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব, সেনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশ :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে ওয়াশিংটন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তবে এই ১৫ দফা প্রস্তাবে কী কী শর্ত রাখা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা দিচ্ছে, এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর মতো বিষয় থাকতে পারে।

এদিকে আলোচনার আভাস দিলেও সামরিক অবস্থান শক্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’ থেকে প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে এসব সেনাকে দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদের সঙ্গে যুক্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক’ আলোচনা এগোচ্ছে। তার ভাষায়, চলমান সংঘাতের একটি ‘চূড়ান্ত সমাধান’ সম্ভব এবং ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এমনকি জ্বালানি খাতে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ইরান সরকার এ ধরনের আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্য ‘ভিত্তিহীন’ এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

পরিস্থিতির জেরে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।