শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

৬ শর্তে ইরানকে আলোচনায় আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুতি শুরু ট্রাম্প প্রশাসনের


প্রকাশ :

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ছয়টি কঠোর শর্ত সামনে রেখে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে—তা বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। যদিও ট্রাম্প যুদ্ধ ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সংঘাত আরও কিছুদিন চলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় হয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপরেখা তৈরিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো সামনে আনতে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখা, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ করা এবং পারমাণবিক কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ সরাসরি না থাকলেও মিসর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে। এসব দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও তাদের পক্ষ থেকেও কিছু কঠোর শর্ত রয়েছে।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো কঠোরই রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে ছয়টি নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইছে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া হিজবুল্লাহ, হুথি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধের শর্তও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান অতীতেও এ ধরনের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক রাখতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বর্তমানে আলোচনার ক্ষেত্রে দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—ইরানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এমন প্রতিনিধি কে হবেন এবং কোন দেশ কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হতে পারে। ওমানের ওপর আস্থা কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্র এখন কাতারের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

সব মিলিয়ে, সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে শর্ত ও পাল্টা শর্তের জটিলতায় এই আলোচনা কতদূর এগোবে, তা এখনো অনিশ্চিত।