শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মার্কিন জনমতে ইসরাইল নিয়ে নেতিবাচকতা বাড়ছে


প্রকাশ :

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলকে ঘিরে জনমতের বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ায় সামগ্রিকভাবে ইসরাইল সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমে এসেছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত নতুন জাতীয় জরিপে।

NBC News পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ আমেরিকান ইসরাইলকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন। তিন বছর আগেও চিত্রটি ভিন্ন ছিল—তখন ৪৭ শতাংশের ইতিবাচক মতামতের বিপরীতে ৩৪ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থানে ছিলেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এই প্রবণতার প্রধান কারণ। ২০২৩ সালে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মত প্রায় সমান থাকলেও, সর্বশেষ জরিপে মাত্র ১৩ শতাংশ ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, বিপরীতে ৫৭ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। একইভাবে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক মত কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে, আর নেতিবাচক মত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন দেখা গেছে। তাদের মধ্যে এখনও ইসরাইলের প্রতি সমর্থন বেশি থাকলেও, ইতিবাচক মত ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৪ শতাংশে নেমেছে এবং নেতিবাচক মত কিছুটা বেড়েছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমেরিকানদের সহানুভূতিও এখন প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। আগে যেখানে স্পষ্টভাবে ইসরাইলের পক্ষে জনসমর্থন বেশি ছিল, এখন সেই ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে ৪০ শতাংশ ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন, আর ৩৯ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি।

বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। এখন তাদের বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল, যেখানে ইসরাইলের পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রজন্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দ্রুত কমছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আসন্ন ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যুটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।