শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মহড়া ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র - দক্ষিণ কোরিয়াকে কিম জং উনের বোনের হুঁশিয়ারি


প্রকাশ :

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, এ ধরনের সামরিক মহড়া কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তি প্রদর্শন উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে “কল্পনাতীত ভয়াবহ পরিণতি” ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিকটবর্তী এলাকায় শত্রুপক্ষের শক্তি প্রদর্শন এমন পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যার ফলাফল কল্পনারও বাইরে।” একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন উত্তর কোরিয়ার ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে।

এই প্রতিক্রিয়া আসে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সোমবার তাদের বার্ষিক যৌথ বসন্তকালীন সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করার পর। ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে চলতি বছর মাঠপর্যায়ের সামরিক মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম রাখা হয়েছে। এ বছর ২২টি ফিল্ড ট্রেনিং ড্রিল পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছর সাবেক দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সরকারের সময় একই মহড়ার আওতায় ৫১টি মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া যে কৌশলগত হুমকি অনুভব করছে, তার জবাবে দেশটি তাদের “অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা” আরও জোরদার করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব “অলঙ্ঘনীয়”।

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘আক্রমণের মহড়া’ বা ‘রিহার্সাল ফর ইনভেশন’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে। এসব মহড়াকে ঘিরে প্রায়ই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সতর্কবার্তা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।