শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

আমিরাত আকাশে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত, ফরাসি রাফালের সরাসরি অভিযানে নতুন বার্তা


প্রকাশ :

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে ইরানের পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান। বুধবার (৪ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট। তিনি জানান, আবুধাবির নিকটবর্তী আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমান এই প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নেয়।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত তাদের সেনা সদস্য, সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটিই প্রথমবার, যখন ফ্রান্স সরাসরি ইরানি ড্রোন ধ্বংসের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোট এক বিবৃতিতে বলেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরেই ফরাসি রাফাল জেটের টহল জোরদার করা হয়েছিল। ড্রোনগুলো আকাশসীমায় প্রবেশের পর দ্রুত সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়, যাতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফ্রান্স স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা এবং নিজস্ব সামরিক স্বার্থ রক্ষায় তারা আপসহীন। আল ধাফরা ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের প্রধান বিমানবাহী রণতরি শার্ল দ্য গোল-কে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করছে। সেই ঘোষণার পরপরই ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা ফ্রান্সের সক্রিয় সামরিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ফরাসি সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখা এবং বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আরব মিত্রদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্যারিস।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় পশ্চিমা দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সক্রিয় করেছে। ফ্রান্সের মতে, ইরানের এ ধরনের তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্র: Al Jazeera