ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
গত শনিবার শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান চলবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
এদিকে হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূমিকা। The Washington Post-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলের চাপেই এই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাজ্য পরোক্ষভাবে এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য যৌথভাবে এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে তারা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক’ হিসেবে দেখছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা জোট আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে সামরিক সহায়তা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।