মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক সংঘাতের সূচনা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে। শান্তি উদ্যোগের কথা বলার অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বা জনগণের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ ছাড়াই এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় এর আইনি ভিত্তি নিয়ে দেশটির ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এই হামলাকে অনেকেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
হামলার পর দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, শুধু আলোচনায় বসানো নয়, প্রয়োজনে ইরানের সামরিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতি সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইসরায়েলের জন্য বিদ্যমান হুমকি মোকাবিলার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক বড় হুমকি না থাকলেও এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক হিসাব থাকতে পারে। আসন্ন নির্বাচনের আগে জনমত নিজের পক্ষে আনার কৌশল হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যু—বিশেষ করে আইনি চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক বিতর্ক—থেকে দৃষ্টি সরাতেও এই সামরিক পদক্ষেপ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইতিহাস বলছে, শুধুমাত্র বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো কঠিন। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী ও আরও সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকের মতে, এখন ইরানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্তে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই হামলার পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।