ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের উত্তরসূরি নির্ধারণে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানে তার কার্যালয়ে হামলায় তিনি নিহত হন।
১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন খামেনি। পরিস্থিতির অবনতি বুঝতে পেরে তিনি আগেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা তৈরি করেন।
অন্তর্বর্তী ক্ষমতা কাঠামো
ইরানি সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন খামেনি। এতে করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আংশিক পাশ কাটিয়ে সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট মহলের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের পাস্তুর কমপ্লেক্সে চালানো হামলায় খামেনির বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর ওপর। এরই মধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে গিয়েছিলেন খামেনি। আলোচনায় থাকা নামগুলো হলো—
বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই
খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি
সংস্কারপন্থি ধর্মীয় নেতা হাসান খোমেনি
এ ছাড়া তার ছেলে মোজতবা খামেনির নাম আলোচনায় থাকলেও নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার বিপক্ষে ছিলেন খামেনি নিজেই।
নেতৃত্ব সংকট ও অনিশ্চয়তা
বর্তমানে ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠনের আলোচনা চলছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য থাকতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে চলমান সংঘাত এবং প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)র ভূমিকা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ইরনা।