শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখল’ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক


প্রকাশ :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করার ইঙ্গিত দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে টেক্সাস সফরে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখল’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কিউবা তীব্র অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে দেশটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে কিউবা এখন ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই দেশটি ভেঙে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার এই সংকটের পেছনে আঞ্চলিক রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি জ্বালানি সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ট্যারিফ নীতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর মধ্যেই ফ্লোরিডা থেকে যাওয়া একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে কিউবার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নির্বাসিতদের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তাদের জন্য শিগগিরই ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে। তবে তার এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টিরও বেশি নাগরিক ও ধর্মীয় সংগঠন। তারা সতর্ক করে বলেছে, কিউবায় জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করলে তা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে।

কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও এ পরিস্থিতিকে কিউবার জনগণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১৯৬২ সাল থেকে চলমান নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: NBC News