শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইতিহাসে প্রথমবার আউন্সপ্রতি ৫২০০ ডলার ছাড়াল স্বর্ণের দাম


প্রকাশ :

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ফিউচার মার্কেটেও ২ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি আউন্স স্বর্ণের লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই বাজারে স্বর্ণের দামে এমন উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ট্রাম্প ডলারের মূল্যকে ‘অতিরিক্ত বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার কমাতে পারেন।

সুদের হার কমার সম্ভাবনা ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলার।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বযাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমানে স্বর্ণ কেবল অলঙ্কার নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স