দুই সপ্তাহের মধ্যে নিহত দুই। সেই নিয়ে উত্তাল অ্যামেরিকা। মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর তল্লাশি অভিযানের প্রথম বলি হয়েছিলেন ৩৭ বছরের রেনে গুড। তার দুই সপ্তাহের মধ্যে শনিবার আইসের গুলিতে প্রাণ হারানমিনিয়াপোলিসের আরেক বাসিন্দা, ৩৭ বছরের অ্যালেক্স প্রেটি।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টা নাগাদ আইস-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রেটি। সেখানে তার উপর একাধিক গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানান, অ্যালেক্স প্রেটি অবসরপ্রাপ্ত সেনা বিভাগের আইসিইউ নার্স ছিলেন।
ঘটনার পরে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেটির কাছে অস্ত্র ছিলো, তিনি আক্রমণাত্মক ছিলেন এবং বন্দুক দিয়ে একাধিক মানুষকে হত্যা করার ঝুঁকি ছিলো। দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়ম বলেন, প্রেটি বন্দুক হাতে আইস অফিসারদের আক্রমণ করেন।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অবশ্য তার বা তার প্রশাসনের দাবির বিপরীত ছবি দেখায়। একাধিক ভিডিও-তে দেখা যায়। প্রেটির হাতে বন্দুক নয়, ছিল তার মোবাইল ফোন যা দিয়ে সে ঘটনার ছবি তুলছিলেন। অপর এক সহ নাগরিক আইস এজেন্টের ধাক্কায় পড়ে গেলে, তাকে সাহায্য করতে যান প্রেটি। সেই সময় তাকে ঘিরে ধরে আইস এজেন্টরা। এক এজেন্ট তার উপর একাধিক গুলি চালায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দাবি প্রকাধ্যে আসার পরেই তার তীব্র নিন্দা করেন প্রেটির পরিবার। একটি যৌথ বিবৃতি তার বাবা এবং মা জানান, তাদের ছেলে দেশকে ভালোবাসতো। তারা আরো লেখেন, প্রেটির মৃত্যুতে তারা শোকাহত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের 'মিথ্যা' প্রচারে ক্ষুব্ধ। বিবৃতিতে তারা এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয় মিনেসোটা। বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শহরেও। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাড়াক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামা একটি যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা করেন। তারা বলেন, "প্রেটির মৃত্যু আমেরিকাবাসীর জেগে ওঠার ডাক।"
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এই ঘটনার পর্যালোচনা হবে।(সূত্র ডয়েচে ভেলে)