ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৪৩ জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল।
বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ এবং কোস্টগার্ডের স্থানীয় শাখার বরাতে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে পার্শ্ববর্তী মিন্দানাও অঞ্চলের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সমুদ্রে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোস্টগার্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আপাতত নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার তৎপরতায় গতি আনতে মিন্দানাও প্রাদেশিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে জনবল সংকট থাকলেও যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ফিলিপাইনে নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।