শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মাদুরো আটক: ‘১৫ মিনিটে আত্মসমর্পণের নির্দেশ’


প্রকাশ :

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় মার্কিন বাহিনী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। এক ফাঁস হওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় মার্কিন সেনারা স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছিল—মার্কিন দাবির প্রতি সম্মতি জানাতে হবে, নতুবা ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ‘লা হোরা দে ভেনেজুয়েলা’ নামের একটি সাংবাদিক গোষ্ঠীর হাতে আসা প্রায় দুই ঘণ্টার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরোর অপসারণের সাত দিন পর এক গোপন বৈঠকে রদ্রিগেজ সেই সংকটময় মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিচ্ছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, মাদুরোকে আটকের প্রথম মিনিট থেকেই চাপ ও হুমকি শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, নিজে, তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো সরাসরি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন।

ফাঁস হওয়া ওই রেকর্ডিংয়ে আরও বলা হয়, শুরুতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের জানিয়েছিল—মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত নন, বরং নিহত হয়েছেন। রদ্রিগেজের দাবি, সেই পরিস্থিতিতে তারা যে কোনো পরিণতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।

তবে মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও বাস্তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় সব দাবিই মেনে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রদ্রিগেজ বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য এখন দেশজুড়ে শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। তার ভাষায়, ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা কোনো স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং ধারাবাহিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইল থেকে বাঁচার কৌশলগত পথ।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দিলে আমেরিকা আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, রদ্রিগেজ যদি তার নির্দেশনা অনুযায়ী না চলেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদ মার্গারিটা লোপেজ মায়া এই পুরো ঘটনাকে রদ্রিগেজের পরিকল্পিত বয়ান হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলার ভেতরের শক্তিশালী কোনো পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোর অপসারণ সম্ভব ছিল না। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, নিজেকে নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তুলে ধরতেই রদ্রিগেজ এই ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই সময়কে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেন রদ্রিগেজ। তিনি তার সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন যে, কৌশলগত ধৈর্য ও বিচক্ষণতার মাধ্যমেই এই সংকট অতিক্রম করা সম্ভব।

বর্তমান বাস্তবতায় ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা কার্যত মার্কিন নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসা ও রদ্রিগেজের তোলা গুরুতর অভিযোগ—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই দেশটির ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাব বিস্তারের নজির হিসেবেই আলোচিত হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি