শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে তথ্যের সঙ্গে বড় অমিল


প্রকাশ :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় অর্থনীতি নিয়ে করা বেশির ভাগ দাবিই বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উঠে এসেছে।

আল-জাজিরার এক বিশেষ তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি, ওষুধের দাম, শুল্কনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্প যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তরের নথিপত্রের স্পষ্ট অমিল রয়েছে। বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’ এবং ওষুধের দাম ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই দাবিগুলো গাণিতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য যাচাই করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে মূল মূল্যস্ফীতি ১.৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২.৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ২.৭ শতাংশে।

ওষুধের দাম কমানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেছেন, তার ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ কর্মসূচির কারণে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পণ্যের দাম ১০০ শতাংশ কমার অর্থই হলো সেটি বিনামূল্যে পাওয়া—এর বেশি কমা বাস্তবে সম্ভব নয়।

শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্যও ভুল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বাইডেন কোনো শুল্ক আরোপ করেননি। অথচ তথ্য বলছে, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, চীনের ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন শুল্ক মামলার রায় নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য আংশিক সঠিক হলেও তা ছিল অস্পষ্ট। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিলে সংগৃহীত শুল্কের পুরোটা নয়, বরং প্রায় অর্ধেক আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে—আগেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

শ্রমবাজার নিয়েও ট্রাম্পের তথ্য অসম্পূর্ণ বলে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে তার প্রশাসন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করলেও, তারা বেসরকারি খাতে সহজে কাজ পাচ্ছেন—এমন দাবি বাস্তব চিত্রে মিলছে না। বিএলএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৮৪ হাজার, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।

গাড়ি কারখানা নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকেও অতিরঞ্জিত বলেছেন বিশ্লেষকরা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন সরঞ্জাম কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় কমে নেমে এসেছে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে। গ্যাসের দাম নিয়েও তার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ২.৮২ ডলার, যা ট্রাম্পের দাবি করা ১.৯৯ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।

সূত্র: আল-জাজিরা