মুসলিম নারীদের বোরকা পরা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রার্থী লায়লা কানিংহ্যাম। তার বক্তব্য মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং ইসলামবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
লায়লা কানিংহ্যাম একজন সাবেক ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) কৌঁসুলি। তিনি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনের জন্য রিফর্ম ইউকের প্রার্থী হিসেবে সম্প্রতি ঘোষিত কানিংহ্যাম বলেন, একটি উন্মুক্ত সমাজে কারও মুখ ঢাকা থাকা উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি মুখ ঢেকে রাখে, তাহলে সেটিকে সম্ভাব্য অপরাধমূলক উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
স্ট্যান্ডার্ড পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় গেলে মনে হয় যেন তা একটি মুসলিম শহর। সেখানে সাইনবোর্ড ভিন্ন ভাষায় লেখা, বাজারে বোরকা বিক্রি হচ্ছে।
তার মতে, যুক্তরাজ্যে একটি অভিন্ন নাগরিক সংস্কৃতি থাকা প্রয়োজন, যা অবশ্যই ব্রিটিশ পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
কানিংহ্যামের এসব মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন মুসলিম উইমেনস নেটওয়ার্ক ইউকের প্রধান নির্বাহী এবং ক্রসবেঞ্চ পিয়ার ব্যারোনেস শাইস্তা গোহির। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বর্ণবাদীদের জন্য একটি ‘ডগ হুইসল’ হিসেবে কাজ করে এবং বোরকা পরা অল্পসংখ্যক মুসলিম নারীকে আরও প্রান্তিক করে তুলবে।
গোহি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামবিদ্বেষী হুমকি এবং গালিগালাজপূর্ণ চিঠি ও ইমেইলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের সংস্থাকে অফিসের বাইরের সাইনবোর্ড ও কর্মীদের ছবি সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, নিজের মুসলিম পরিচয় থাকা সত্ত্বেও কানিংহ্যাম এমন বার্তা দিচ্ছেন, যেন মুসলিমরা এই সমাজের অংশ নন। এতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও নিপীড়নে জড়িত ব্যক্তিরা আরও উৎসাহিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।