সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

গাজায় হিমশীতল আবহাওয়ায় প্রাণহানি বেড়ে ২৪, নিহতদের মধ্যে ২১ শিশু


প্রকাশ :

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তীব্র শীত ও হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রার প্রভাবে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর বিভিন্ন সময় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলমান শীত মৌসুমের শুরু থেকেই অতিরিক্ত ঠান্ডায় সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়, যা ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট প্রাণহানিকে এই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। নিহত সবাই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি, যারা মানবেতর পরিস্থিতিতে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছিলেন।

মিডিয়া অফিস জানায়, গাজায় সক্রিয় নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় সাত হাজার তাবু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। দেইর আল-বালাহসহ একাধিক এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে তাবু ভেসে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

ইসরায়েলি অবরোধ ও ধারাবাহিক ধ্বংসযজ্ঞে গাজার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি এমন শিবিরে বসবাস করছেন, যেখানে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগও নেই। তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের জীবনের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজায় গরম কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশে বাধা থাকায় কোনো কার্যকর হিটিং ব্যবস্থাও চালু রাখা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতির জন্য গাজা সরকার সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তারা একে ‘ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে ৪৪৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন।

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি