সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইরানে দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়াতে পারে


প্রকাশ :

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা পূর্ববর্তী হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে চালানো অভিযানে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্র ধারণা দিচ্ছে।

প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সীমিত পরিসরে কিছু সংযোগ চালু হলে স্থানীয় সূত্রগুলো হতাহতের ভয়াবহ চিত্র সামনে আনে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগেও জানিয়েছিল, সরকার প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার পার্লামেন্টে বলেছেন, তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরানের উপকণ্ঠের একটি মর্গের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তারা যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। ভিডিওটি নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্যের সঙ্গে বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে কোনো নিয়মিত বা পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন অজ্ঞাতনামা ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে। ওই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ও উসকানিকারীদের দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, তারা যে তথ্য পাচ্ছেন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার অভিযোগ, আহত ও নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করতে বিভিন্ন হাসপাতালে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি জনগণ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাস্তব পদক্ষেপ আশা করছে। তার মতে, দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ইরানের বড় অংশের জনগণ বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ