সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

২০২৬ হতে পারে প্রবালপ্রাচীরের শেষ বছর


প্রকাশ :

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর সরাসরি চাপ পড়ছে প্রবালপ্রাচীরের ওপর। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালেই বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে গত দশ বছরে বিশ্বের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, পৃথিবী এখন প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই সীমা পেরিয়ে গেলে অনেক প্রবালপ্রাচীর আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।

প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান গবেষক সামান্থা গারার্ড জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রবালপ্রাচীরের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, প্রবালের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির চক্র এল নিনোর ওপর।

সাম্প্রতিক এক শক্তিশালী এল নিনো পর্যায়ে অতিরিক্ত তাপের কারণে বিশ্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ব্লিচিংয়ের শিকার হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে নতুন করে এল নিনো চক্র শুরু হলে প্রবালপ্রাচীর সেই ধাক্কা সামলাতে পারবে না।

উষ্ণ পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলে প্রবালের ভেতরে থাকা রঙিন শৈবাল বেরিয়ে যায়। এতে প্রবাল সাদা হয়ে পড়ে, যাকে ব্লিচিং বলা হয়। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাল শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

যদিও সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় প্রবালপ্রাচীর বিস্তৃত, তবু সাগরের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রবালপ্রাচীর ধ্বংস মানে পুরো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।

আগে উষ্ণ এল নিনো বছরের পর সাধারণত শীতল পানির লা নিনা পর্যায় আসত, যা প্রবালপ্রাচীরকে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিত। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এখন এল নিনো আরও ঘন ঘন ও শক্তিশালী হচ্ছে। এতে পানির তাপমাত্রা কমার সময় কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের এক্সিটার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম লেন্টনের মতে, “আমরা যেভাবে প্রবালপ্রাচীরকে চিনি, সেই রূপে এগুলোর টিকে থাকা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে।”

গত বছর প্রকাশিত ১৬০ জন বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে তৈরি গ্লোবাল টিপিং পয়েন্টস রিপোর্টেও বলা হয়েছে, প্রবালপ্রাচীর ইতোমধ্যেই তাদের সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই ব্যাপক ব্লিচিং শুরু হয়। বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

সামান্থা গারার্ডের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর একসঙ্গে বড় ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। মিসরের আকাবা উপসাগর ও মাদাগাস্কারের কিছু প্রবালপ্রাচীর তুলনামূলকভাবে বেশি তাপ সহনশীল। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরগুলো শীতল পানির স্তরের কারণে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।