ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মিরাফ্লোরেসের কাছাকাছি এলাকায় আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে এই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন বিশেষ অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই গোলাগুলি পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেলসি রদ্রিগেজ শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে (জিএমটি রাত ১২টা) প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আকাশসীমায় অজ্ঞাত কয়েকটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ওই ড্রোনগুলোকে লক্ষ্য করেই প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ড্রোনের উপস্থিতি ও রাতের আঁধারে গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাগুলির শব্দ শনিবারের হামলার মতো তীব্র না হলেও কারাকাসের মধ্যাঞ্চলে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রাসাদ থেকে পাঁচ ব্লক দূরে বসবাসকারী এক বাসিন্দা জানান, প্রায় এক মিনিট ধরে টানা গুলির শব্দ শোনা গেছে। তিনি আকাশে কোনো উড়োজাহাজ দেখতে না পেলেও দুটি রহস্যময় লাল আলো জ্বলতে দেখেছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার সময় আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে জানালা ও বারান্দা থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশে আলোর ঝলকানি এবং গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত প্রাসাদের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে।
দেশটির চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই ড্রোন অনুপ্রবেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজের সামনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা স্পষ্ট করছে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে।
সূত্র: এএফপি