ভেনেজুয়েলার প্রায় সব বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ান এক সামরিক বিশ্লেষক। তার মতে, দেশটির সামুদ্রিক ও আকাশপথে সরবরাহ ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে।
রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্টেপানোভ এই মন্তব্য করেন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস তার বক্তব্য প্রকাশ করে।
স্টেপানোভ বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রায় সব সামুদ্রিক ও বিমান সরবরাহ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যেসব বিমানঘাঁটিতে আগে এফ-১৬ ও সামরিক পরিবহন বিমান মোতায়েন ছিল, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। তবে সামরিক সহযোগিতার আওতায় আগে সরবরাহ করা এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমানগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো মেলেনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়। এরপর হেলিকপ্টার ও প্যারাট্রুপার ইউনিট রাজধানী কারাকাসে প্রবেশ করে।
রুশ এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বর্তমানে মার্কিন বিমান বাহিনী ও বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে দেশটির বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্টেপানোভের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তার প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জন করেছে। তবে ভেনেজুয়েলার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আরও অভিযান চালানো হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জানান, কারাকাসে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।