সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ কর্মী নেবে সৌদি আরব ও আমিরাত


প্রকাশ :

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনলেও মধ্যপ্রাচ্যের দুই শীর্ষ অর্থনীতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা কমছে না। বরং ২০৩০ সালের মধ্যে এই দুই দেশ মিলিয়ে ১৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মী নিয়োগ দেবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একটি বৈশ্বিক শ্রমবাজার সমীক্ষা।

২০২৫ সালে প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে মার্কিন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘সার্ভিসনাউ’ এবং যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ও দক্ষতা মূল্যায়ন সংস্থা ‘পিয়ারসন’। গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবসা ও কাজের ধরন বদলে দিলেও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বড় আকারের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে মানবশ্রমের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরও এই দুই দেশ বড় ধরনের শ্রমঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি দেশটির উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’। নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন, লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশটির শ্রমশক্তির চাহিদা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো না যেত, তাহলে সৌদি আরবকে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত আরও সাড়ে ছয় লাখ কর্মী নিয়োগ দিতে হতো। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বিস্তৃত ব্যবহার সত্ত্বেও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য জনবল ঘাটতি থেকে যাবে, যা পূরণে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত অর্থনীতির তুলনায় কয়েক গুণ দ্রুত। ডিজিটাল রূপান্তরে জোর দেওয়ার ফলে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বিপণন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই মানুষের একঘেয়ে ও নিয়মিত কাজ সহজ করে দেবে, তবে কারিগরি তদারকি, গ্রাহক সেবা এবং সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের মতো ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

হাজার হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে তৈরি এই গবেষণায় বলা হয়েছে, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা ও জ্বালানি খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, বৃত্তিমূলক দক্ষতা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা রয়েছে, তারা নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন।

গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলালেও শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান মানবশ্রমের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে। ফলে যারা সময়মতো দক্ষতা উন্নয়ন ও রিস্কিলিংয়ে বিনিয়োগ করবে, তারাই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

সূত্র: জিও নিউজ