সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতের অবসান, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত দুই দেশ


প্রকাশ :

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সহিংস সংঘাত বন্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে দুই দেশের মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র সামরিক উত্তেজনা। চুক্তি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নাথফোন নাকফানিট এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী টি সিহা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে উভয় দেশ বর্তমানে মোতায়েন সেনাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে। সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সেনা সমাবেশ কিংবা উসকানিমূলক কোনো সামরিক তৎপরতা চালানো যাবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সংঘাত চলাকালে কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় হামলার অভিযোগ তোলে। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরাও পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

দীর্ঘদিনের এই সীমান্ত উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশেষ করে কম্বোডিয়ার অর্থনীতিতে। পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। একাধিক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোয় সীমান্ত অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষদের ঘরে ফেরার আশা জেগেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের ওপর। এরই মধ্যে দুই দেশের সামরিক কমান্ড নিজ নিজ বাহিনীকে সংযম বজায় রাখা ও চুক্তির শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা