সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

আঙ্কারার কাছে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত


প্রকাশ :

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার উপকণ্ঠে একটি প্রাইভেট জেট দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে লিবিয়ার ত্রিপোলির উদ্দেশে যাত্রার কিছু সময় পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

এই দুর্ঘটনায় আল-হাদ্দাদের সঙ্গে লিবিয়ার আরও চারজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিমানের তিনজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাওয়ি, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই দিয়াব এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

লিবিয়ার জাতিসংঘ–সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারায় সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দবেইবার ভাষায়, এই ঘটনা শুধু সেনাবাহিনীর নয়, গোটা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানান, দাসো ফ্যালকন–৫০ মডেলের বিমানটি উড্ডয়নের পর বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানিয়ে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। আঙ্কারায় ফিরে আসার প্রস্তুতিকালে অবতরণ পর্যায়ে বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে উড্ডয়ন করা বিমানটির সঙ্গে রাত ৮টা ৫২ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে আঙ্কারার হায়মানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। স্থানটি রাজধানী আঙ্কারা থেকে আনুমানিক ৭৪ কিলোমিটার দূরে।

তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটিই দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ঘটনায় আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। লিবিয়ার সরকারও তদন্তে সহযোগিতার জন্য একটি প্রতিনিধি দল তুরস্কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আল-হাদ্দাদ লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রভাবশালী সামরিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ২০২০ সালের আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত লিবিয়ায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এর আগের দিনই তুরস্কের পার্লামেন্ট লিবিয়ায় সেনা মোতায়েনের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ত্রিপোলিভিত্তিক দবেইবা সরকারের সঙ্গে আঙ্কারার সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২০ সাল থেকে তুরস্ক লিবিয়ায় সেনাসদস্য পাঠানোসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে যুক্ত রয়েছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-হাদ্দাদের সফরকালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে লিবিয়াজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।