সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

হাফতারের বাহিনীকে ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে পাকিস্তান


প্রকাশ :

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সঙ্গে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন অস্ত্র এ চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় সামরিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে হাফতার দেশের পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করলেও পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবা।

রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহে বেনগাজি সফরে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির হাফতারের ছেলে সাদ্দামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সফরেই অস্ত্রচুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। লিবিয়ান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মুনির বলেন, সশস্ত্র বাহিনীই একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে।

এক ভিডিও বার্তায় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি লিবিয়াকে ‘বীরদের ভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামী ওমর আল-মুখতারের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, হাফতারের বাহিনী পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানের ১৬টি এবং পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমানের ১২টি কিনবে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আড়াই বছরে চুক্তিটি বাস্তবায়ন হবে এবং এতে স্থল, নৌ ও আকাশপথের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মোট চুক্তিমূল্য সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে ত্রিপোলির সরকার কিংবা হাফতারের বাহিনীর কারোরই শক্তিশালী আকাশবাহিনী নেই। ফলে এই চুক্তি লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও রাশিয়ার সমর্থনে ত্রিপোলি দখলের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন হাফতার। সে সময় তুরস্ক ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারকে সহায়তা করতে ভাড়াটে যোদ্ধা ও ড্রোন পাঠায় এবং পরে পশ্চিম লিবিয়ায় সেনা মোতায়েন করে।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দিবেইবাকে প্রধানমন্ত্রী করা হলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে লিবিয়া বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির প্রক্সি সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়ার রাজনৈতিক মিত্রতা জটিল রূপ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ত্রিপোলির সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও তুরস্ক হাফতারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে। তবে সুদানের সংঘাত ঘিরে হাফতার পরিবারের অবস্থানের কারণে মিসরের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হাফতারের কাছে পাকিস্তানের অস্ত্র বিক্রি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান সরকার অস্ত্র রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেষ্টা করছে। যদিও জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে লিবিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে, বাস্তবে দেশটিতে অস্ত্র প্রবাহ বন্ধ হয়নি।

এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।