সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

আসিয়ান বৈঠকের দিনেই থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে গোলাগুলি


প্রকাশ :

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের উদ্যোগে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক সেই দিনই দুই দেশের সীমান্তে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের সা কাইও প্রদেশে গোলাগুলির খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘টিভি ৩ মর্নিং নিউজ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্বোডিয়ান বাহিনী সীমান্ত এলাকায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেছে।

এর পাল্টা অভিযোগ তুলে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, থাইল্যান্ড বান্তে মিঞ্চায় প্রদেশে এফ–১৬ যুদ্ধবিমান থেকে চারটি বোমা নিক্ষেপ করেছে এবং প্রেই চ্যান গ্রামে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।

ভোরের দিকে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ আসিয়ানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা চলছিল। তবে ওই চুক্তির পরও গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

এ পর্যন্ত চলমান সংঘাতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

কম্বোডিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়, দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলেছে—সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। আতঙ্কের মধ্যে শিশুদের কান্নার দৃশ্যও চোখে পড়ে।

থাইল্যান্ড সরকার এখনো সর্বশেষ সংঘর্ষ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দেশের সীমান্ত অঞ্চলের প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অপরদিকে থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল আগেও দাবি করেছেন, তার দেশ কখনো আগ্রাসনের পথে যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটি দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর উভয় দেশকে শত্রুতা বন্ধ, ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার, মাইন স্থাপন বন্ধ এবং কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।