স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে আরও জটিল করে পশ্চিম তীরে নতুন করে ১৯টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির কট্টর ডানপন্থি নেতা ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্মোতরিচ জানান, তিনি এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের কাছে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন, যা সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবও।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে গত কয়েক দশক ধরেই পশ্চিম তীরে ধাপে ধাপে বসতি স্থাপন জোরদার করছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় তিন বছরে পশ্চিম তীরে ইহুদি আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে বসতি সম্প্রসারণের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ১৯টি বসতি কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুমোদিত বসতির সংখ্যা আরও বাড়বে।
এদিকে স্মোতরিচ দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু সরকারের লক্ষ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া।
ইসরায়েলি মানবাধিকার ও বসতিবিরোধী সংস্থা পিস নাও-এর তথ্যমতে, বর্তমানে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা প্রায় ১৬০টি। এসব বসতিতে বসবাস করছেন আনুমানিক সাত লাখ ইসরায়েলি নাগরিক।