সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি


প্রকাশ :

আগামী জানুয়ারিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার জনসাধারণের শুনানি শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালত জানিয়েছে, মামলাটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে এবং দীর্ঘ সময় পর গণহত্যা সংক্রান্ত অভিযোগে ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে’ পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুনানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুনানির প্রথম পর্বে মামলার বাদী পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়া ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। ২০১৯ সালে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সহায়তায় গাম্বিয়া এই মামলাটি আইসিজেতে দায়ের করে। এতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সহযোগী বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের অভিযানের সময় জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আইসিজে তিন দিন নির্ধারণ করেছে, তবে এ অংশটি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।

এই সংকটের ফলে সাত লাখ ৪২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। পরে ২০২০ সালে আইসিজে মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধে ‘তার ক্ষমতার মধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের’ নির্দেশ দেয়।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, জানুয়ারির শুনানি মামলাটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে দায়ের করা এই মামলার মৌখিক শুনানি ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় নির্ধারিত হয়েছে।

এদিকে উইমেন’স পিস নেটওয়ার্ক-মিয়ানমারের নির্বাহী পরিচালক ওয়াই ওয়াই নু জানিয়েছেন, আইসিজেতে গাম্বিয়ার মামলার পক্ষে একাধিক দেশের সমর্থন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে মিয়ানমারে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করত। সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের দায় ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।