সুদানে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও আটজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও আফ্রিকান বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা মাসাদ বোলোস বলেন, সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে শনিবারের হামলা শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
তিনি যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘের কর্মীদের কখনোই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। অবিলম্বে ও কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তার জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই বাহিনীর লড়াইয়ে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী এ হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর সদস্য ছিলেন। তারা সুদান ও প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার বিতর্কিত তেলসমৃদ্ধ সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন ছিলেন।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা অযৌক্তিক এবং তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।