ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেছেন। তিনি তিনটি চলমান দুর্নীতি মামলার বিচার থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন, দাবি করে যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিচার দেশের সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ক্ষমার আবেদন জমা দেওয়ার পরপরই তেল আবিব জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ রাতেই প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে জমায়েত হয়। কেউ কেউ কয়েদিদের মতো কমলা পোশাক পরেন, আবার অনেকে কলার স্তূপ সাজিয়ে নেতানিয়াহুকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন। বিরোধী দলের এমপি নাআমা লাজিমিও বিক্ষোভে অংশ নেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতা শিকমা ব্রেসলার বলেন, “নেতানিয়াহু কোনো দায়ভার না নিয়ে দেশকে বিভক্ত করেছে। বিচার বাতিল করার চেষ্টা দেশের জন্য বিপজ্জনক।”
প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর আইনজীবীদের পাঠানো ক্ষমার অনুরোধ তারা গ্রহণ করেছে এবং তা প্রকাশ করেছে। তবে সাবেক আইনজীবী মাইকা ফেটম্যান সতর্ক করেছেন, আদালতে দোষ স্বীকার না করলে ক্ষমা পাওয়া আইনত সম্ভব নয়।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের তিনটি মামলা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ধনকুবেরদের কাছ থেকে বিলাসসামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়েছেন। পাশাপাশি ইতিবাচক সংবাদ কাভারেজের জন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেনদরবারের অভিযোগেও দুটি মামলা রয়েছে।
এই মামলাগুলো দেশে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকরা দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী; বর্তমান মেয়াদ শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন তিনি বিচার বিভাগের সংস্কারের প্রস্তাব দেন।
তিনি ২০২৬ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে লিকুদ পার্টির হয়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা করেছেন।