রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় নিহত ৬৭ শিশু, মানবিক সংকট তীব্র


প্রকাশ :

গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র রিকার্দো পাইরিস বলেন, নিহতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের এক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারা যাওয়া নবজাতক মেয়েটিও অন্তর্ভুক্ত। এর আগে ইসরায়েলের হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়েছিল।

পাইরিস বলেন, “এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি শিশু ছিল একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবন—যা সহিংসতায় হঠাৎ থেমে গেছে।” ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু আহত বা নিহত হয়েছে।

সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ শিশুকে আঘাতের কারণে আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হতে হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, গাজা এখন আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু-অঙ্গহানি অঞ্চল।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শিশুদের খাদ্য ও নিরাপত্তাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবরোধ ও খাদ্যঘাটতি শিশুদের ঝুঁকিতে রেখেছে।

সপ্তাহজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খান ইউনিসে তাদের ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে। হামাস দাবি করছে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং এটি ‘গণহত্যার পুনরায় সূচনা’।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসকরা গাজায় নারী ও শিশুদের চিকিৎসা দিয়েছেন—অনেকের শরীরে গুলির আঘাত ও গুরুতর ক্ষত দেখা গেছে। আল-শিফা হাসপাতালে আহত মোহাম্মদ মালাকা বলেন, বিস্ফোরণের পর তার পরিবার রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মানবিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের বিধিনিষেধ গাজার সংকট আরও গভীর করেছে। আশ্রয়হীন অনেক মানুষ ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। পাইরিস বলেন, “লক্ষাধিক শিশু ধ্বংসস্তূপের ওপর তাবুতে আছে—রাতে কোনো গরম নেই, কম্বল নেই, সুরক্ষা নেই। বিশ্বের উচিত নয় এই কষ্টকে স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়া।”