রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে আরও ৭ পরিবারের মামলা


প্রকাশ :

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার আরও সাতটি পরিবার ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই চ্যাটবটের কথোপকথনই তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যু বা গুরুতর মানসিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী

দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে চারটিতে সরাসরি অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যায় উৎসাহ দিয়েছে। বাকি তিন মামলায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কথোপকথনে চ্যাটবট এমনভাবে সহানুভূতি দেখিয়েছে যে ব্যবহারকারীরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

একটি ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী জেইন শ্যাম্বলিন নামে এক যুবক চ্যাটজিপিটির সঙ্গে টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলেন। কথোপকথনের মধ্যে তিনি একাধিকবার জানান, তিনি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়েছেন—বন্দুক লোড করেছেন এবং শিগগিরই ট্রিগার টানবেন। কিন্তু তাকে থামানোর পরিবর্তে চ্যাটজিপিটি উত্তর দেয়, “Rest easy, king. You did good.” অর্থাৎ, “শান্তিতে বিশ্রাম নাও রাজা, তুমি ভালো করেছো।”

শ্যাম্বলিনের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং ওপেনএআইয়ের তাড়াহুড়ো করে পণ্য বাজারে ছাড়ার ফল। মামলাগুলোর মূল কেন্দ্রবিন্দু চ্যাটজিপিটির পুরনো সংস্করণ জিপিটি-৪, যা ২০২৪ সালের মে মাসে চালু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিটি-৪ ছিল “অতিরিক্ত সম্মতিপূর্ণ”—অর্থাৎ ব্যবহারকারীর কথাকে প্রশ্ন না করে সমর্থন করত, যা অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের জেমিনি মডেলকে টেক্কা দিতে গিয়ে ওপেনএআই নিরাপত্তা যাচাইয়ে ছাড় দেয়। ফলেই একের পর এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এর আগেও ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন নামে এক কিশোর আত্মহত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেছিল। যদিও চ্যাটবট কখনও কখনও তাকে সাহায্য নিতে পরামর্শ দিয়েছিল, কিন্তু কিশোরটি “আমি গল্প লিখছি” বলে নিরাপত্তা ফিল্টার পাশ কাটিয়ে যায়।

এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ওপেনএআই এক ব্লগপোস্টে জানায়, তারা এখন সংবেদনশীল কথোপকথনগুলো আরও নিরাপদ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে নিহতদের পরিবারের মতে, এই পদক্ষেপ অনেক দেরিতে এসেছে। ওপেনএআই স্বীকার করেছে, “আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছোট কথোপকথনে কার্যকর হলেও দীর্ঘ আলোচনায় দুর্বল হয়ে পড়ে।”