রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি, নিহতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়াল


প্রকাশ :

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় রক্তপাত কমেনি। শনিবার (৯ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর গত এক মাসেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ২৪০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবারও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করার অভিযোগে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ওই লাইন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটার কথা ছিল। দক্ষিণ গাজাতেও একই অভিযোগে আরও একজনকে হত্যা করেছে সেনারা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমারেখার কাছাকাছি গেলেই ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষও ইসরায়েলি গুলির শিকার হচ্ছেন।

শনিবার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া একটি বিস্ফোরক যন্ত্রে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখতে গাজা-মিশর সীমান্তের রাফা ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার রোগী রাফা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেছেন। তবে আরও ১৬ হাজার ৫০০ রোগী এখনো চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন।

ডব্লিউএইচও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রোগী স্থানান্তরের জন্য অপরিহার্য। মিশর এখনো গাজার গুরুতর আহতদের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে, পশ্চিম তীরেও সহিংসতা থামেনি। নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা শহরে জলপাই সংগ্রহে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। মানবাধিকারকর্মী জোনাথন পোলাক আল জাজিরাকে জানান, মুখোশধারী কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী ক্লাব ও পাথর নিয়ে গ্রামবাসীদের আক্রমণ করেছে। এতে অন্তত এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক ও ৭০ বছর বয়সী এক প্রবীণের চোয়াল ভেঙে যায়।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন জানায়, ওই ঘটনায় পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা এটিকে সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে, তাদের দুই কর্মী আহতদের মধ্যে রয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম তীরের ৭০টি এলাকায় অন্তত ১২৬টি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা হয়েছে। এতে চার হাজারের বেশি জলপাইগাছ কেটে ফেলা বা ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবারও জেনিনের দক্ষিণ-পূর্বে রাবা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সেনাদের সহায়তায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া ফারাআ শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করেছে সেনারা। জেনিনের কাছে ইয়াবাদ শহরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে মারধর করে আটক করা হয়েছে। রামাল্লাহর কাছের মাজরাআ আশ-শারকিয়া শহর থেকেও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

অন্যদিকে, পূর্ব জেরুজালেমের আর-রাম এলাকায় এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করা হয়েছে। নাবলুসের পূর্বে সালেম গ্রামের এক মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের দিকে গ্যাস ছোড়ার ঘটনায় বহু মানুষ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন।