বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

নানা চাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান


প্রকাশ : (১ ঘন্টা আগে)
নানা চাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, অর্থনৈতিক সংকট, ব্যয়বহুল উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে চাপে রয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তাঁর নেতৃত্বে দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা কতটা সফল হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিষয়ক গবেষক ড. জাকির হোসেনের এক বিশ্লেষণে সৌদি যুবরাজের বিভিন্ন নীতি ও তার প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটি প্রথম আলোতে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে হুতিদের পরাজিত করে নিজেদের অনুকূল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও হুতিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি। এতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষানীতি ও আঞ্চলিক কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদি আরবের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও বিশ্লেষণে গুরুত্ব পেয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ও হুতিদের হামলার হুমকি দেশটির নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর চাপ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকের মতে, সৌদি আরবের পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও যুবরাজের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির মাধ্যমে তেলনির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য খাতের বিকাশ ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যয়বহুল উন্নয়ন প্রকল্প, ঋণের চাপ এবং তেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বাধা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সৌদি আরবের তাবুক অঞ্চলে নির্মাণাধীন নিওম প্রকল্পও আলোচনায় এসেছে। এর অন্যতম বড় উদ্যোগ ‘দ্য লাইন’ নামে ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভবিষ্যৎ নগরী নির্মাণ। প্রকল্পটির ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সৌদি আরবকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

যুবরাজের ক্ষমতায় উত্থান সৌদি রাজপরিবারের প্রচলিত উত্তরাধিকার প্রথায়ও পরিবর্তন এনেছে। ২০১৭ সালে তাঁর বাবা বাদশাহ সালমানের শাসনামলে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে পরবর্তী রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজপরিবারের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও সম্ভাব্য বিরোধ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেশটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং হুতিদের হামলার আশঙ্কা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিলেও এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা শেষ হয়ে আসছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। বরং বিশ্লেষণে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া চাপ এবং অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস

বিজ্ঞাপন