বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা, আহতদের দেশে ফেরানোর আকুতি


প্রকাশ : (২ ঘন্টা আগে)
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা, আহতদের দেশে ফেরানোর আকুতি

নির্মাণ শ্রমিকের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশটির হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে নিহত হয়েছেন, কেউ নিখোঁজ, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ মে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে ৩০ জন বাংলাদেশি একসঙ্গে রাশিয়ায় যান। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। দুজন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। অন্য দুজন পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মো. আলী হাসান সোহেল রাশিয়ার পেনজা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাঁদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়।

আলী হাসান জানান, মাত্র পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। পরে সেনাবাহিনীর পোশাক ও অস্ত্র দিয়ে সামনের দিকে যেতে বলা হয়। যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বন্দী করে রাখা, মারধর ও শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলী হাসান দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, সুস্থ হওয়ার পর আবারও তাঁকে যুদ্ধে পাঠানো হতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সুস্থ হলে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলী হাসানের সঙ্গে প্রথম দফায় যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া পাঁচজনের একজন ছিলেন গোপালগঞ্জের পলাশ শেখ। ড্রোন হামলায় তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পলাশও দেশে ফিরতে চান।

আলী হাসান ও পলাশের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক সহায়তার জন্য গত ২৬ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরিবারগুলোর দাবি, বিদেশে কাজের আশায় ঋণ নিয়ে তাঁরা রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। এখন একদিকে আহত স্বজনদের নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে ঋণের বোঝা তাঁদের চাপে ফেলেছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হয়। গত তিন বছরে এ প্রবণতা বেড়েছে। কাজের প্রতিশ্রুতিতে রাশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এলেও তাঁদের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে প্রথম আলো অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাসের বক্তব্য জানতে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো। অন্যদিকে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, যুদ্ধে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এমন কেউ দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেননি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেছেন, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের চিকিৎসা ব্যয় ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ রাশিয়ার কাছ থেকে আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া এবং সুস্থ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।

বিজ্ঞাপন