কামাল উদ্দিন আহমেদ
জ্ঞান তাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন : পিতার উপযুক্ত পুত্র শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে পারস্যের মরমীয়াবাদ তার কবিতায় প্রকাশ করেছিলেন। সে হিসেবে তাঁকে বাংলা ভাষার সূফী কবি বলা যেতে পারে। প্রথমে তাঁর ' ঊর্বশী ' কবিতার কথা বলি।
আমি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ' ঊর্বশী ' কবিতার একটি আবৃত্তি রেকর্ড করেছিলাম। আমার অধ্যাপকরা বলেছিলেন, ' মানে তো কিছু বুঝলাম না, কিন্তু এর সংগীত বড় সুন্দর লাগে'। এই উর্বশী পৌরাণিক উর্বশী নয়। কোন লোকের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। নারী মাত্রই হয় মাতা, নয় কন্যা, নয় বধূ।কিন্তু ঊর্বশী এর কোনোটাই নয় - ' নহ মাতা, নহ কন্যা, নহ বধু সুন্দরী রূপসী '। আদিম কাল থেকেই মানুষের মনে সৌন্দর্য পিপাসা জেগেছিল। আর এই সৌন্দর্য লাভের জন্য কত মারামারি হানাহানি হয়েছে। প্রাচীন গ্রিসের হেলেন, ভারতের সীতা, ধ্যযুগের পদ্মিনী জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। কোরআন শরীফে হাবিল ও কাবিলের যে বৃত্তান্ত আছে, তাতে দেখা যায়, কাবিল হাবিলকে হত্যা ছিল। এর কারণ বলা হয়েছে কাবিলেরকাবিলেরকাবিলের নারীকাবিলের নারীকাবিলের নারীকাবিলের নারীকাবিলের রীকাবিলের নারী সৌন্দর্যেরপিপাসা ।
সে সৌন্দর্যপিপাসার কথাই রবীন্দনকথ
বলেছেন :
যুগ যুগান্তর হতে তুমি শুধু বিশ্বের প্রেয়সী
হে অপূর্ব শোভনা ঊর্বশী !