রাজারহাট(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:০৫-১০-২০২৬ইং সন।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আহসান হাবিবের রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সেবা গৃহীতা নাগরিক।
টাকা ছাড়া নামজারি (খারিজ), ভূমি উন্নয়ন কর, আদালতের তদন্ত প্রতিবেদনসহ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ না করার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, কথিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরই অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, ২০২২ সালে আহসান হাবিব একই উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে বাজেমুজরাই গ্রামের শাহজামাল ও লুৎফর রহমান ১৭ এপ্রিল নামজারির আবেদন করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধ দলিলপত্রের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে সোয়া ১৪ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ জমির নামজারি করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারের অভিযোগ, তার নিজ নামে থাকা ২১ শতাংশ জমির একটি অংশ শাহজামাল ও লুৎফর রহমানের নামে নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। তার ছেলে টুটুলের অভিযোগ, তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আহসান হাবিব অর্থের বিনিময়েই ওই নামজারি সম্পন্ন করেন।
ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ি গ্রামের এমদাদুল হকের অভিযোগ আরও সরাসরি। তিনি বলেন, জমি খারিজের জন্য প্রথমে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। পরে আরও ১ হাজার টাকা দিয়েও ফল না পেয়ে কথিত সিন্ডিকেটের সদস্য এক ভেন্ডারের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর জমিটি খারিজ করাতে সক্ষম হন।
এমদাদুল হকের ভাষ্য, “আহসান হাবিব টাকা ছাড়া কোনো খারিজ করেন না।”
অন্যদিকে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ছিনাই ইউনিয়নে কেনা ২৯ শতাংশ জমি খারিজ করতে তাকে দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়েছে। পরে কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তার ২৯ শতাংশ জমি খারিজ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু নামজারি নয়, ভূমি উন্নয়ন কর, আদালতের তদন্ত প্রতিবেদনসহ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়ার পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগী বা কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি সেবাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে-ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা যদি নির্ধারিত নিয়মে পাওয়ার কথা হয়, তাহলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কথিতভাবে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ কেন উঠছে? কার মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা আছে কি না-তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আহসান হাবিবের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বর্তমানে রাজারহাট উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা তাসনিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে নামজারি ও ভূমিসেবা ঘিরে অর্থ লেনদেনের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে দালাল বা কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত
১৫ ঘন্টা আগে