দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, বেসরকারি অফিসও কি বন্ধ থাকবে? আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি হলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে চাকরিজীবীদের। তবে ছুটির চূড়ান্ত ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দুর্গাপূজার ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ছুটির আওতায় থাকবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ছুটির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হলে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।
যেভাবে মিলতে পারে টানা পাঁচ দিনের ছুটি
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হলে তার সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে।
সে ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন চাকরিজীবীরা। তবে ২২ অক্টোবরের ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
জরুরি সেবা কি বন্ধ থাকবে?
সাধারণত সরকারি ছুটির সময়ও জনস্বার্থে জরুরি সেবা চালু থাকে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাকসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ছুটির আওতার বাইরে রাখা হতে পারে।
এ ছাড়া হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, জরুরি পরিবহন এবং এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও সেবা ছুটির বাইরে থাকবে, তা উল্লেখ করা হয়।
ব্যাংকের কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট।
সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটির পার্থক্য কী?
সরকারি ছুটি মূলত সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি ও ঐচ্ছিক ছুটি, এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। প্রতিটি ছুটির উদ্দেশ্য ও প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সাধারণ ছুটি: জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিজয়া দশমী, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস এর উদাহরণ।
নির্বাহী আদেশে ছুটি: সরকার বিশেষ সিদ্ধান্তে এ ধরনের ছুটি ঘোষণা করে। সাধারণত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ছুটির আওতায় থাকেন। তবে ছুটির প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।
ঐচ্ছিক ছুটি: নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়মে বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ পান। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয়। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়া যেতে পারে।
দুর্গাপূজায় ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এবার চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের অবকাশের সুযোগ তৈরি হবে। তবে ছুটির চূড়ান্ত মেয়াদ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা এবং জরুরি সেবার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর।
গুজব-অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের সাহসী পদক্ষেপ
১২ ঘন্টা আগে