অস্বাভাবিক জীবনধারার পরিবর্তন ও উত্তম খাদ্যাভাস তৈরী না হওয়ায় বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে উদ্বেগজনক হারে মৃত্যু বাড়ছে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ ভাগ হয়েছে হৃদরোগ, শ্বাস তন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার, মানসিক সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগে। দেশে শতকরা ৫২ ভাগ পুরুষ ধুমপায়ী এবং প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। ২০২১ সালের পরিসংখ্যানে দেশে এক কোটি ৩১ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং ওই বছর ৭৫ হাজার ৬১৭টি মৃত্যু হয়েছে ডায়াবেটিসের কারণে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রংপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ‘রংপুর জেলার মানুষের খাদ্য বৈচিত্র্যতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে এ তথ্য তুলে ধরেন, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট-বারটান রংপুরের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেকুল ইসলাম।
তিনি জানান, রংপুরের মানুষের খাদ্য তালিকায় শতকরা ৬৭ ভাগ থাকে দানাদার খাদ্য। একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫ গ্রাম লবন খাওয়ার কথা থাকলেও খাচ্ছে ১১ গ্রাম, চিনি ২০ গ্রাম খাওয়ার কথা থাকলেও খাচ্ছে ৫ গ্রাম, শাক-সবজি ও ফলমূল ৪’শ গ্রাম খাওয়ার কথা থাকলেও খাচ্ছে ৩১৭ গ্রাম। এছাড়া জেলা শতভাগ মানুষ নিরাপদ উৎস থেকে পানি খাচ্ছে, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা রয়েছে ৬০ ভাগ মানুষের, শতকরা ৯৬ ভাগ হাত ধোয়ার স্থানে পানি ও সাবান আছে এবং শতকরা ৫৯ ভাগ পরিবার আয়োডিন যুক্ত লবন খায়।
তিনি আরও জানান, বিশ্বে অতিরিক্ত লবন খাওয়ার কারণে প্রতি বছর ৩০ লাখ মানুষ। বাড়ছে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। ফলমূল কম খাওয়ার কারণে ২০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। বাদাম, বীজ, শাক-সবজি, সামদ্রিক থেকে পাওয়া ওমেগা-৩, আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমান কম হওয়া মৃত্যুর বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, বিশ্বে এক কোটি ১০ লাখ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর মধ্যে এক কোটি মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের জীবন আয়ু কমে যাচ্ছে।
উত্তম খাদ্যভাস তৈরীসহ অস্বাভাবিক জীবনধারা পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে সেমিনারে জানানো হয়, দেশে রোগ সম্পর্কিত গবেষণা কম হওয়ায় রোগের প্রকৃত চিত্র মিলছে না। ৬০ শতাংশ সরকারী হাসপাতালে নেই রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ১৫২টি আইন ও নীতিমালা থাকলেও খাদ্য নিরাপদ হচ্ছে না। ২৪-২৫ সালে বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষায় শতকরা ৩৩ ভাগ নমুনা অনিরাপদ হিসেবে পেয়েছে।
বারটানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট-বারটানের আয়োজনে সেমিনারে কৃষি, খাদ্য পুষ্টি, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, উত্তম খাদ্যাভাস তৈরী, ভেজাল খাদ্য বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে অভিযানসহ উত্তম জীবনধারায় জীবনযাপন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
গুজব-অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের সাহসী পদক্ষেপ
১২ ঘন্টা আগে