প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র চার বছরেও চালু হয়নি। কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হতে বসেছে কেন্দ্রের কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রটি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) কাছে হস্তান্তর করে। তবে অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি।
রাজারহাট উপজেলা শহরের কাছাকাছি নাজিমখানগামী সড়কের পূর্ব পাশে কেন্দ্রটির অবস্থান। কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ২০১৮ সালের ১ জুলাই প্রকল্পটির কাজ শুরু করে।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেম্বারে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজারহাটের এই কেন্দ্রে ধান, গম ও সরিষা ভাঙানোর পাশাপাশি মসলা, চিপস ও বেকারি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা রাখা হয়। এ ছাড়া দুধ, মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয় আধুনিক কোল্ড চেম্বার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রটির মূল ফটক তালাবদ্ধ। ভেতরে সারি সারি আধুনিক ও দামি যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতিতে জং ধরেছে এবং নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় চাকির পশার পাঠকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কফিল উদ্দীন, আমিনুর রহমানসহ কয়েকজন কৃষক জানান, কেন্দ্রটি চালু হলে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া সহজ হতো। পাশাপাশি পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় কোনো সুফলই পাচ্ছেন না তারা। বরং উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কেন্দ্রটি চালু না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্রও পাওয়া গেছে। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শওকত আলম জানান, কেন্দ্রটি তাদের মন্ত্রণালয়ের হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানজিলা তাসনিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী জানান, আগের নীতিমালা অনুযায়ী আরডিএর নিজস্ব জনবল দিয়ে কেন্দ্রটি পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে কোনো সমবায় সমিতি, এনজিও বা আগ্রহী উদ্যোক্তার কাছে তিন বছরের জন্য কেন্দ্রটি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কেন্দ্রটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে কেন্দ্রটি চালু করা না হলে সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত এই স্থাপনা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয়ের পাশাপাশি কৃষকরাও প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।