সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী


প্রকাশ : (১৩ ঘন্টা আগে)
রংপুরে চার খুনের ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এমপি। আজ রোববার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় চার হত্যাকান্ডের ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আদালতে চার্জশীট দাখিল করবে পুলিশ। জনগণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।অপরদিকে আলোচিত চার খুনের মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এমপি বলেন, আমি এখানে এসে জানতে পারলাম মাদকাসক্তরা গণপতি স্যারকে অনেক ডিস্টার্ব করতো।মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্যারসহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনী দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।বর্তমান সরকার এসব হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রামিশা হত্যা মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। তার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। আমরা এলাকায় নন্দিনী নামে একটি বাচ্চা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে বিচার কার্যশেষ হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চার্জশীট দাখিল করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঘন্যতম এ হত্যাকান্ডের মামলায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।হত্যাকান্ডের মূল আসামী স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এই হত্যাকান্ডের পেছনে মাদক রয়েছে। আমাদের সরকার মাদকের বিষয়ে সবোর্চ্চ সাজা মৃত্যু দন্ড করেছে। আমরা আশা করছি জনগণের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করতে হবে। জনগণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ না করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা যাবে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।  

কারাগার থেকে নেওয়া হলো সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টের নমুনা-ঃ

রংপুরে আলোচিত চার খুনের মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।এর আগে আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে টেকনোলজিস্টকে কারাগারে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর তারা নমুনা সংগ্রহের জন্য কারাগারে যান। এ সময় ডিবির সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পর আসামিদের নমুনা সংগ্রহের জন্য কারাগারে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য আসামিদের ইউরিন স্পেসিমেন (প্রস্রাবের নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্রবও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। তাই এই মামলার আসামিদের বাইরে নিয়ে আসা হলে তাদের ওপর হামলা বা যেকোনো সময় মবের সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পরে টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি :

নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসা বাদের পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি পুলিশ।নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
রংপুর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী রাত সোয়া ১১টার দিকে জানান,হত্যার শিকার চারজনের বাড়ির পাশেই আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাড়ি। স্পর্শকাতর ওই ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য তাঁর বাবা ও ভাইকে কয়েকবার ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল। তাঁরা আসেননি। তাই বিকেলে তাঁদের নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে নতুন কিছু পাওয়া যায়নি। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বুধবার রাতে সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ তুলে দাবি করেন, হত্যাকান্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলামত নষ্ট করতে ছাদ ধোয়া হয়নি ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক থেকে পানি উপচে ছাদ ভিজে যায়।

বিজ্ঞাপন