কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উদ্ধারকৃত এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। প্রশাসনের সিলগালা করা এই কারখানাটি পুনরায় চালু করে অবৈধভাবে নকল সিগারেট উৎপাদন করা হচ্ছিল।
দৌলতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের একটি গোডাউনে বুধবার এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে নামিদামি ব্যান্ডের ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট এবং বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
গড়বাড়িয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক হাবিব মাস্টারের মালিকানাধীন একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছিল। মাসিক ৪০ হাজার টাকায় জয়রামপুর এলাকার শাকিল এবং বৈদ্যনাথতলার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে গোডাউনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আগেই কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছিল। কিন্তু সিলগালা করার পরও আদালতের আদেশ অমান্য করে কারখানাটিতে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ৯ মে র্যাব-১২ এবং কাস্টমস বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে এই কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছিল। তবে সিলগালার পরও কারখানাটি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে এবং কারখানাটি আবারও সিলগালা করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।